সর্বশেষ সংবাদ :




» বেটিং ও ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে আরামবাগের শাস্তি

Published: ৩০. আগ. ২০২১ | সোমবার

নিউজ ডেস্ক: ঘরোয়া ফুটবলে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের ঐতিহ্য ফের ভূলুণ্ঠিত। ক্যাসিনো-কাণ্ডের পর আরও একটি বড় ধাক্কা খেল মতিঝিলপাড়ার ক্লাবটি। প্রিমিয়ার লিগের বিভিন্ন ম্যাচে আরামবাগের বিরুদ্ধে লাইভ বেটিং, স্পট ফিক্সিং, ম্যাচ পাতানো ও অনলাইন বেটিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রিমিয়ার লিগে তাদের দুই বছর নিষিদ্ধ করে দুধাপ নিচে প্রথম বিভাগে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

বেটিং ও ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ক্লাবটির সাবেক চার কর্মকর্তাকে আজীবন এবং আরও ১৬ জন কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়কে বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ডিসিপ্লিনারি কমিটি। বাংলাদেশের ফুটবলে পাতানো ম্যাচের অভিযোগে আগে শাস্তি হলেও বেটিং বা স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য এমন শাস্তি এবারই প্রথম। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে স্পট ফিক্সিংয়ের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ আগস্ট বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা প্রকাশ করা হয় রোববার। বাফুফের দেওয়া এই শাস্তি চ্যালেঞ্জ করে আপিল করবে বলে জানিয়েছে আরামবাগ।

যে অপরাধে আরামবাগের শাস্তি : প্রিমিয়ার লিগ থেকে আগেই অবনমন নিশ্চিত হয়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের। এবার যেন তাদের মাথায় বাজ পড়ল। পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ নয়, স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সরাসরি নামিয়ে দেওয়া হলো প্রথম বিভাগে। সেখানে চ্যাম্পিয়ন হলেও দুবছর পর্যন্ত তারা ওপরের ধাপ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলতে পারবে না। কিন্তু অবনমন হলে নেমে যাবে দ্বিতীয় বিভাগে। বলতে গেলে আগামী দুই বছর তাদের প্রিমিয়ার লিগে নিষিদ্ধই করল বাফুফে। আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের অনৈতিক কার্যকলাপের প্রমাণ পেয়েছিল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও। এএফসির নির্দেশনা পেয়েই বাফুফে ক্লাবটির বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে। বাফুফের পাতানো খেলা শনাক্তকরণ কমিটি সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত এবং ক্লাবের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মোবাইল কথোপকথনের ফরেনসিক প্রতিবেদনে স্পট ফিক্সিংয়ের প্রমাণ পায়।

আজীবন নিষিদ্ধ যারা : আরামবাগের সাবেক সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম, সাবেক ম্যানেজার গওহর জাহাঙ্গীর রুশো, সাবেক ভারতীয় ফিটনেস ট্রেইনার মাইদুল ইসলাম শেখ এবং সাবেক সহকারী ম্যানেজার আরিফ হোসেনকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত বছর আর্থিক সমস্যায় ক্লাবটির পুরোনো সংগঠকরা পৃষ্ঠপোষকদের হাতে ক্লাব পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেন। তারা বিদেশি কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় এনেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়েই লাইভ বেটিং, স্পট ফিক্সিং, ম্যাচ ম্যানুপুলেশন ও অনলাইন বেটিং করা হয়

বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ যারা : বেটিং কেলেঙ্কারিতে ১০ বছর নিষিদ্ধ করা হয়েছে দুই ভারতীয় কোচিং স্টাফ ফিজিও সঞ্জয় বোস এবং সহকারী আজিজুল শেখকে। আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সাবেক খেলোয়াড় আপেল মাহমুদ নিষিদ্ধ হয়েছেন পাঁচ বছর। তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন আরামবাগের সাবেক খেলোয়াড় আবুল কাশেম মিলন, আল আমিন, রকি, জাহিদ হোসেন, রাহাদ মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান সৈকত, শামীম রেজা ও অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান। দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন সাবেক নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় সিজোবা ক্রিস্টোফার, ওমর ফারুক, রকিবুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ফাহাদ ও মেরাজ মোল্লা।

বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটির বক্তব্য : বেটিং-কাণ্ডে আরামবাগের শাস্তির বিষয়ে বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘পাতানো খেলা শনাক্তকরণ কমিটি বেশ কয়েকটি সভা করে। আমাদের কাছে তারা একটি রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্ট এবং আমাদের ডিসিপ্লিনারি কোডের ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আপিল করবে আরামবাগ : দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অতীতে এত বড় শাস্তি পায়নি কোনো ক্লাব। তবে বাফুফের দেওয়া এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করবে আরামবাগ। ক্লাবটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আপিল করব। আশা করি বাফুফে আমাদের আপিল বিবেচনা করবে।’ বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তের বিপরীতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আপিল কমিটি ভুক্তভোগীর আবেদন এবং ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। বাফুফের দেওয়া শাস্তির তালিকায় বেশির ভাগই আরামবাগের আগের কর্মকর্তারা এবং তাদের মাধ্যমে আসা বিদেশি কোচিং স্টাফ ও ফুটবলাররা। এ বিষয়ে ইয়াকুব আলীর বক্তব্য, ‘স্পট ফিক্সিং করেছে ব্যক্তিরা। চিহ্নিত ওইসব ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়াও হয়েছে। ব্যক্তির জন্য প্রতিষ্ঠানকে সেভাবে দোষী করা ঠিক না।’ আরামবাগের পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে কালই ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

পাতানো ম্যাচের আরও শাস্তি : পাতানো ম্যাচ নিয়ে আগে থেকেই সরব ছিল ফুটবলাঙ্গন। আগেও এর জন্য শাস্তি পেয়েছেন অনেকে। ২০১৩ সালে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির তৎকালীন ম্যানেজার সালাউদ্দিন কালা এবং গোলকিপার ইরান শেখকে তিন বছর করে নিষিদ্ধ করেছিল বাফুফে। এছাড়া ২০১৭ সালে পাতানো ম্যাচ তদন্তের সত্যতা পাওয়ায় প্রথম বিভাগ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে নামিয়ে দেওয়া হয় ঢাকা ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাব ও ফ্রেন্ডস সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনকে। সূত্র:যূগান্তর

Share Button




খোঁজাখুঁজি

November 2021
M T W T F S S
« Oct    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

বিজ্ঞাপন

    (সাংবাদিকতা স্বাধীনতা বিশ্বাসী) প্রয়োজনে ফোন:০১৭১৮৫১৪১২৬